নতুন নিয়মে পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ

নতুন শিক্ষাক্রমের আওতায় গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন। এবারই প্রথম কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এরপর তা স্কুলগুলোতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার আগের দিন গত মঙ্গলবার রাতে পাঠানো এই প্রশ্ন কিছু শিক্ষার্থীর হাতে চলে যায়।

বিশেষ করে যেসব শিক্ষক প্রাইভেট-কোচিং করান। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই প্রশ্ন সমাধানসহ ঘুরতে থাকে, যা গতকাল পরীক্ষার দিনে হুবহু মিলে যায়। প্রথমবারের মতো পাঁচ ঘণ্টার ষাণ্মাসিক মূল্যায়নে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বাংলা, সপ্তমে ধর্ম, অষ্টমে জীবন ও জীবিকা এবং নবম শ্রেণিতে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের মূল্যায়ন করা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ২০ হাজার ৬৩৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয় বলে জানা গেছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে আগে প্রশ্ন পাওয়া গেলেও তাতে মূল্যায়নে প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল ইসলাম চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে এক অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যদি আগে থেকে জানেও যে প্রশ্নপত্র কী হবে, তবু এতে কোনো ক্ষতি নেই। এখানে ফাঁস হওয়ার কোনো বিষয় নেই। প্রশ্ন ফাঁস করলেও সেটার কোনো উপকারিতা নেই। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে পারদর্শিতার স্তর অতিক্রম করতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ষাণ্মাসিক মূল্যায়নের প্রশ্নপত্র মঙ্গলবারই হাতে পেয়েছেন শিক্ষকরা। তাঁরা সেই প্রশ্নপত্র ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ, শিক্ষাবিষয়ক পেজ, শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের নামে চালানো ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন। প্রশ্নপত্র পেয়ে যাওয়ায় অনেক প্রাইভেট ও টিউশন শিক্ষক দ্রুত সেটির সমাধান করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ আগে থেকে প্রশ্ন পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান রাজধানীর একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের কী শিক্ষা দিচ্ছি! শিক্ষার্থীদের হাতে যদি প্রশ্ন ও উত্তর চলেই যাবে, তাহলে আমাদের দিয়ে এত কষ্ট করানোর তো কোনো মানে নেই।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সৈয়দ জাফর আলী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার আগের দিন বিকেলে উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বসে ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন পরীক্ষার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। সেখানে এই পরীক্ষার প্রশ্ন গোপন রাখার বিষয়টিও বলা ছিল। কিন্তু এর পরও কিভাবে বাইরে বের হলো, সে বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।’

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামানের বলেন, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে—এমন নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ও এর উত্তর সংবলিত টিউটোরিয়াল ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এটিকে প্রশ্ন ফাঁস মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। নৈপুণ্য অ্যাপে শুধু প্রধান শিক্ষকদের আইডি রয়েছে।

Copyright © priyokagoj.com All Right Reserved.
Developed By Monoputo