• প্রকাশ : রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

ত্বকের যত্নে গ্লিসারিন একটি পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত উপাদান। পানি ও সুগন্ধির পর প্রসাধনীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর একটি হলো গ্লিসারিন। এটি ত্বককে আর্দ্র রাখতে ও সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখে সরাসরি বা অপরিশোধিত (undiluted) গ্লিসারিন ব্যবহার করলে উল্টো সমস্যা দেখা দিতে পারে; যেমন– ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ফোসকা পড়া। তাই গ্লিসারিন ব্যবহারে কিছু সতর্কতা জানা জরুরি।

গ্লিসারিন কী?

গ্লিসারিন, যাকে গ্লিসারলও বলা হয়, একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি সাধারণত উদ্ভিজ্জ তেল বা প্রাণিজ চর্বি থেকে তৈরি করা হয়। গ্লিসারিন স্বচ্ছ, বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং একটু ঘন ও মিষ্টি স্বাদের তরল।

গ্লিসারিন হলো একটি হিউমেকট্যান্ট, অর্থাৎ এটি ত্বকের গভীর স্তর ও আশপাশের বাতাস থেকে পানি টেনে এনে ত্বকের উপরের স্তরকে আর্দ্র রাখে। এ কারণেই এটি ময়েশ্চারাইজার, লোশন, সাবানসহ নানা স্কিন কেয়ার পণ্যে ব্যবহার করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের ওপরের স্তর আর্দ্র রাখতে গ্লিসারিন অনেক জনপ্রিয় উপাদানের চেয়েও কার্যকর।

ত্বকের জন্য গ্লিসারিনের উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লিসারিন ত্বকের জন্য যেসব উপকার করে, সেগুলো হলো :

- ত্বকের উপরিভাগে আর্দ্রতা ধরে রাখা

- ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর শক্তিশালী করা

- ত্বককে জ্বালা ও ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করা

- ক্ষত সারাতে সহায়তা করা

- শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমানো

কিছু ক্ষেত্রে সোরিয়াসিসের উপসর্গ হালকা করতে সাহায্য করা

গ্লিসারিন কি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে?

হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে পারে। গ্লিসারিন আশপাশ থেকে পানি টেনে আনে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে, এটি ত্বকের ভেতরের স্তর থেকে পানি টেনে নিতে পারে। ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং কখনো কখনো ফোসকাও পড়তে পারে।

এই কারণে বিশেষজ্ঞরা সাধারণত খাঁটি গ্লিসারিন সরাসরি ত্বকে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। বরং গ্লিসারিনযুক্ত প্রস্তুত প্রসাধনী ব্যবহার করাই নিরাপদ।

অনেকে গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, গোলাপজলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী গুণ আছে, যা ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?

গ্লিসারিন সাধারণত নিরাপদ হলেও, যে কোনো প্রাকৃতিক উপাদানের মতোই এতে অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকে। যদি ব্যবহার করার পর -

ত্বক লাল হয়ে যায়

চুলকানি হয়

ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দেয়

তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

মুখে গ্লিসারিন কীভাবে ব্যবহার করবেন?

যদি ব্যবহার করতেই চান, তাহলে সতর্কভাবে করুন :

- প্রথমে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

- তুলা বা টিস্যুতে অল্প গ্লিসারিন নিয়ে হালকাভাবে মুখে লাগান।

- কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন।

- এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

তবে মনে রাখতে হবে, এটি নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নয়। গ্লিসারিনযুক্ত ফেসওয়াশ বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ।

কোন গ্লিসারিন পণ্য ব্যবহার করবেন?

বাজারে গ্লিসারিনযুক্ত অসংখ্য পণ্য পাওয়া যায়। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডই যে সবার জন্য ভালো হবে, এমন নয়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য গ্লিসারিন সাবান অনেক সময় ভালো বিকল্প হতে পারে। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

গ্লিসারিনের অন্যান্য ব্যবহার

ত্বকের যত্ন ছাড়াও গ্লিসারিন ব্যবহৃত হয় :

- কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায়

- বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে

- খাদ্যে মিষ্টি ও ঘনত্ব বাড়াতে

- সংরক্ষণকারী উপাদান হিসেবে

গ্লিসারিনকে সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)।

গ্লিসারিন ত্বকের জন্য উপকারী একটি উপাদান, বিশেষ করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে। তবে মুখের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় খাঁটি গ্লিসারিন সরাসরি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিজে মিশিয়ে ব্যবহার না করে, গ্লিসারিনযুক্ত মানসম্মত প্রসাধনী ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

ত্বকে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সচেতন ব্যবহারই ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে।



  • প্রকাশ : রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম

অল্প বয়সেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চুল পড়া, এ সমস্যা এখন আর বিরল নয়। কর্মব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত খাবার, মানসিক চাপ আর ঘুমের ঘাটতির প্রভাব পড়ছে সরাসরি চুলের স্বাস্থ্যে। চুল পড়া শুরু হলেই অনেকেই ভরসা করেন নানা রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট, সিরাম বা ওষুধে। কিন্তু এসবের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল আরও দুর্বল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়।

"বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সবচেয়ে জরুরি হলো ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানো। আর সেই পুষ্টির বড় একটি অংশ আসে আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকেই। সামান্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে, নিয়মিত কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখলে চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, চুল পড়া কমাতে ও চুল ঘন করতে কোন খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত। "

বাদাম

চুল নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন আখরোট, আমন্ড ও কাজুর মতো বাদাম। এসব বাদামে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেল, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে এবং চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।

চিয়া বীজ

চিয়া বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চুলের পুষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দই বা সালাদের সঙ্গে নিয়মিত চিয়া বীজ খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

শিমের বীজ

চুল পড়া আটকাতে চান, একই সঙ্গে চুল ঘন করতে চান? সে ক্ষেত্রে শিমের বীজ হতে পারে দারুণ উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, যা চুলের গঠন ও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলে চুলের শক্তি বাড়ে।

পালং শাক

পালং শাকে রয়েছে ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস। এই ভিটামিন চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে। চুল পড়া কমাতেও পালং শাক বেশ কার্যকর।

আমলকি

প্রতিদিন অল্প পরিমাণে আমলকি খেলে চুল পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে।

চুলের যত্ন মানেই শুধু তেল বা শ্যাম্পু নয়, ভালো চুলের জন্য প্রয়োজন সঠিক খাবার আর নিয়মিত অভ্যাস। তাই বাইরে থেকে যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকেও চুলকে সুস্থ রাখতে আজ থেকেই খাদ্যতালিকায় এসব পুষ্টিকর খাবার যোগ করুন।


চায়ের স্বাদ ছাড়িয়ে চুলের যত্ন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৫২ এএম

হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানা সভ্যতায় চা শুধু একটি পানীয় নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেই পরিচিত। মানসিক চাপ কমানো, ব্যথা উপশম, মনোযোগ বাড়ানো কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা—প্রায় প্রতিটি সমস্যার জন্যই রয়েছে কোনো না কোনো চা-সমাধান। চায়ে রয়েছে অসাধারণ কিছু গুণাগুণ, যা নিয়মিত পান করলে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের চা শুধু শরীর নয়, চুলকেও করে তোলে ঘন, শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত—জানলে অবাক হবেন এর বিস্ময়কর উপকারিতা! কীভাবে?

তাই জানাচ্ছেন বৃষ্টি শেখ খাদিজা

স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে প্রকৃতি সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সেখানে চুল কীভাবে এর প্রভাবের বাইরে থাকতে পারে? আয়ুর্বেদ ইতিহাসে এমন বহু প্রাকৃতিক উপাদান ও ঘরোয়া উপায়ের কথা বলা হয়েছে, যা চুলকে করে তোলে আরও স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী ও উজ্জ্বল। আর সেই প্রাকৃতিক সমাধানগুলোর মধ্যেই স্বাদ ছাড়িয়ে আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—চা পান। স্বাদে তৃপ্তি দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক ধরনের চা নিয়মিত পান করলে চুলের গঠন মজবুত হয়, উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং সামগ্রিকভাবে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত হয়। আজকের জানব, কীভাবে চা হতে পারে আপনার চুলের যত্নে এক অনন্য প্রাকৃতিক সঙ্গী।

চুলের বৃদ্ধিতে চায়ের ভূমিকা

জীবন যতই এলোমেলো হোক, চুল যেন তেমন না হয়—এ চাওয়াই তো সবার। আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে প্রাচীন ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির দীর্ঘ যাত্রায় প্রকৃতির নিরাময় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এসেছে সার্বিক সুস্থতার জন্য। সেই ধারাবাহিকতায় সাধারণ চা ও হারবাল চা প্রাচীনকাল থেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আজকাল চুলের যত্নে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন হেয়ার গ্রোথের জন্য চা। সতেজ স্বাদের পাশাপাশি চা যে নানা স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর, তা তো জানা কথাই। তবে জানলে অবাক হবেন—সঠিক ধরনের চা আপনার স্ক্যাল্পকে রাখতে পারে সুস্থ এবং চুলকে করে তুলতে পারে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

চুলের বৃদ্ধিতে চা ব্যবহারের ইতিহাস

ইতিহাসের পাতা উল্টালে কিংবা পৌরাণিক কাহিনির দিকে তাকালেই দেখা যাবে, চুলের যত্নে জবা (হিবিস্কাস) চা, নানা হারবাল চা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক চা ব্যবহারের উল্লেখ। সে সময় কেমিক্যালের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে, অথচ চুলের গুণমান ছিল আজকের তুলনায় অনেক ভালো। বিশেষ কিছু হারবাল চা ও প্রাকৃতিক চা চুলের গোড়া থেকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়। যেমন—নেটল চা, ব্লু ফ্লাওয়ার চা, হিবিস্কাস চা, গ্রিন টি, রোজমেরি চা, পেপারমিন্ট ইত্যাদি। এসব চা স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। কেউ এগুলো পানীয় হিসেবে উপভোগ করেন, আবার কেউ চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করেন।

আমলকী চা: যাকে বিশ্বাস করতেন সাধু-সন্তরাও

চুলের যত্নে আমলকীর ভূমিকা বরাবরই অনস্বীকার্য। দাদি-নানিদের ঘরোয়া টোটকায় সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চুলের কথা উঠলেই আমলকীর নাম যেন অবধারিত। আমলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চুলের যত্নে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে এসেছে।

আমলকী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’তে ভরপুর। আর যখন এটি দিয়ে চা তৈরি করা হয়, তখন তা হয়ে ওঠে এক কাপ চুল-সঞ্জীবনী পানীয়। আমলকী চা চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, চুলের গোড়া শক্তিশালী করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে অকালপক্বতা বা অসময়ে চুল পাকা রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ক্যামোমাইল চা: চুলের জন্য গ্রিন টির বিশেষ উপকারিতা

ক্যামোমাইল চা স্ক্যাল্পকে শান্ত করে এবং চুলের ফোলিকলগুলোকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। এটি চুলে পুষ্টি জোগাতে পারে এবং যদি আপনি এটি দিয়ে চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করেন, তবে চুল আরও উজ্জ্বল ও কোমল দেখাবে, সঙ্গে আকর্ষণীয় হালকা আভা বা লাইটনিং এফেক্টও আসতে পারে।

পদ্ধতি খুবই সহজ—ক্যামোমাইল চা ফুটিয়ে নিন এবং কিছু সময় ঠান্ডা হতে দিন, যতক্ষণ না এটি রুম টেম্পারেচারে পৌঁছায়। এরপর চুল শ্যাম্পু করার পর এ চা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। অন্তত পাঁচ মিনিট রেখে দিন, তারপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

নেটল চা: চুলের জন্য এক অনন্য সমাধান

নেটল চা শুধু সার্বিক সুস্থতার জন্যই নয়, চুলের যত্নেও অসাধারণ উপকারী। এটি চুলের বৃদ্ধির জন্য যেন একটি শক্তিশালী সহায়ক স্তম্ভ এবং অধিকাংশ চুলের সমস্যার জন্য একক সমাধান হিসেবে পরিচিত। নেটল চা ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘কে’তে সমৃদ্ধ। এতে এমন উপাদান আছে, যা চুলকে গভীরভাবে পুষ্টি দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুলের বৃদ্ধি প্ররোচিত করে। এ ছাড়া, এতে সিলিকা ও আয়রনের মতো খনিজও বিদ্যমান, যা চুলের স্বাস্থ্য ও ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এ চা স্ক্যাল্প ও হরমোনাল সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করে, যা চুলের স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল হয় আরও শক্তিশালী, ঘন ও প্রাণবন্ত।

গ্রিন টি: চুলের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভরপুর খোঁজ

গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলে ভরপুর। এটি চুলের বৃদ্ধির জন্য এক চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে পরিচিত। গ্রিন টি চুলের ফোলিকলকে শক্তিশালী করতে সরাসরি সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পেপারমিন্ট চা: স্ক্যাল্প ও মনকে ঠান্ডা রাখে

চুলের বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য চায়ের মধ্যে পেপারমিন্ট চা বিশেষভাবে কার্যকর। এটি শরীর ও চুলের জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদানে ভরপুর। পেপারমিন্ট চা সরাসরি চুলের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে এবং স্ক্যাল্পকে সতেজ রাখে।

ভৃংগরাজ চা: চুলের পুনর্জীবন ও স্বাস্থ্যবর্ধক

চুলের যত্নে ভৃংগরাজকে বলা হয় ‘হের্বের রাজা’ বা সমস্ত উৎকৃষ্ট হের্বের উত্তরসূরি। এটি চুলকে পুনরুজ্জীবিত করতে ও স্বাস্থ্য বাড়াতে দারুণ। শুকনো ভৃংগরাজ পাতার চা আপনার চুলের রুটিনে যোগ করলে নতুন চুল গজানো এবং চুল পড়া কমানো সম্ভব। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের ঘনত্ব বাড়ে এবং স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে।

মেথি চা: শুকনো চুলে জীবন সঞ্চার

মেথি হলো রান্নাঘরের সাধারণ মসলার মধ্যে অন্যতম, কিন্তু চুলের যত্নেও এটি বিস্ময়কর। মেথি চা তৈরি করতে মেথি ভিজিয়ে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। এরপর এটি স্ক্যাল্পে ঢালুন। ধীরে ধীরে এটি স্ক্যাল্পকে আর্দ্রতা যোগ করে এবং অপ্রয়োজনীয় খসখসানি দূর করে। মেথি চা প্রোটিনে সমৃদ্ধ, যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে।

ব্ল্যাক চা: চুলে নতুন রং ও উজ্জ্বলতা

ব্ল্যাক চা অনেকের প্রিয় পানীয়। এতে থাকা ক্যাফেইন চুলের ফোলিকল ও ফ্ল্যাভনয়েড উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলে স্বাভাবিকভাবে আরও উজ্জ্বলতা ও ঘনত্ব আসে।

ল্যাভেন্ডার চা: শান্তি ও পুষ্টির খোঁজ

যারা মনে করেন ল্যাভেন্ডার চা শুধু আপনার সন্ধ্যায় স্নিগ্ধতা যোগ করতে পারে, তাদের জন্য বলি—এটি অনেক বেশি। এই চা শান্তিদায়ক উপাদানে ভরপুর, যা স্ট্রেস কমাতে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি চুলের বৃদ্ধিও উৎসাহিত করতে পারে। ল্যাভেন্ডার চা ব্যবহার করতে চাইলে চা ফুটিয়ে ছাঁকনি দিয়ে ঝরিয়ে নিন এবং চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করুন। চায়ের সুগন্ধ ও উপাদান চুলকে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সাহায্য করে, চুলকে করে সুস্থ ও প্রাণবন্ত।

হিবিস্কাস চা: ফুলের চা ও ট্রপিক্যাল উপহার

হিবিস্কাস চা চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত। দাদি-নানির ঘরোয়া টোটকায় হিবিস্কাস বা জবা ফুল প্রায় সর্বদা চুলের যত্নের অংশ ছিল। হিবিস্কাস চা তৈরি করা হয় শুকনো পাপড়ি দিয়ে, তবে কেউ কেউ তাজা পাপড়ি ব্যবহার করতেও পছন্দ করেন।

হিবিস্কাস চা অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ। এটি চুলকে সম্পূর্ণভাবে পুষ্টি দেয়, চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুলকে ঘন, মসৃণ ও ঝলমলে রাখে। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই চা অকালপক্ব চুলের ধূসরতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্ক্যাল্পকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল সামলানো সহজ হয় এবং চুল সর্বোপরি সুস্থ ও উজ্জ্বল থাকে।

বিষয় :

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম


বাঙালির দৈনন্দিন জীবনে চা যেন অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ | ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম

বাঙালির দৈনন্দিন জীবনে চা যেন অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। দিনের শুরু থেকে আড্ডা কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ চা অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই প্রিয় পানীয়টিই যদি মাত্রাতিরিক্ত পান করেন, তাহলে তা আপনার কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমিত পরিমাণে চা পান শরীরের ক্ষতি করে না, বরং কিছু উপকারও করে। তবে অতিরিক্ত বা ঘন চা পান কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়ায়।

অতিরিক্ত চা ও কিডনির ওপর প্রভাব

১. অক্সালেট জমে পাথর তৈরি

চায়ের মধ্যে থাকে অক্সালেট নামক প্রাকৃতিক যৌগ। ঘন ঘন বা অতিরিক্ত চা পান করলে শরীরে অক্সালেটের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল তৈরি করে, যা কিডনিতে পাথর গঠনের প্রধান কারণগুলোর একটি।

২. ক্যাফেইনের কারণে ডিহাইড্রেশন

চায়ে থাকা ক্যাফেইন একটি মূত্রবর্ধক উপাদান। এটি শরীরে ঘন ঘন প্রস্রাব তৈরি করে পানি বের করে দেয়। যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না পান করেন, তাহলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হয়, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

৩. কিডনির ওপর চাপ বৃদ্ধি

অতিরিক্ত চা নিয়মিত পান করলে কিডনি সবসময় অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হয়। ফলে এর ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগেই কিডনির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

কখন সতর্ক হবেন

যদি আপনি নিয়মিত ঘন ঘন চা পান করেন এবং নিচের যে কোনো লক্ষণগুলো লক্ষ্য করেন, তাহলে অবিলম্বে সতর্ক হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

১. অস্বাভাবিক প্রস্রাব : ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।

২. প্রস্রাবের রং পরিবর্তন : প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ বা লালচে হয়ে যাওয়া (রক্তের উপস্থিতি)।

৩. ফোলাভাব : চোখ, মুখ, পা বা গোড়ালিতে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিলে।

৪. পিঠ বা কোমরের ব্যথা : কোমরের নিচে বা পাশে একটানা ব্যথা অনুভব করা।

৫. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা : ক্রমাগত অবসাদ, দুর্বলতা বা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, চা পানের অভ্যাস একেবারে ত্যাগ নয়, বরং পরিমিত রাখুন। দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি চা না খাওয়াই উত্তম। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখুন।

কারণ, চা যতই প্রিয় হোক, সুস্থ কিডনি ছাড়া শরীরের কোনো প্রিয় জিনিসই দীর্ঘদিন উপভোগ করা সম্ভব নয়।


বিষয় :