যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের নতুন হামলা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ এর ২৭তম দফা হামলা চালিয়েছে। এতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। খবর প্রেস টিভির।
শনিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সমন্বিত এই হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইসরায়েলের অধিকৃত উত্তরাঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তাদের মহাকাশ বিভাগ নতুন ধরনের কঠিন জ্বালানিচালিত ‘খেইবার-শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হাইফা শহরের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রে লক্ষ্যভেদী নির্দেশনা ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া ড্রোন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অবস্থান করা একটি ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ‘মেরিনা’ নামের একটি এলাকায় মার্কিন বাহিনীর অবস্থানে ড্রোন হামলা করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সালমান বন্দরে মার্কিন বাহিনীর সামরিক সহায়তা স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের হামলার পর অধিকৃত অঞ্চলে বারবার সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠছে এবং সেখানে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ শুরু করে ইরান। এরপর থেকে ইরানি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত বছর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সময়ও ইসরায়েল ইন্টারসেপ্টরের সংকটে ছিল | ছবি : সংগৃহীত
ইরানের
সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে
আসছে।
মার্কিন
কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার (১৪ মার্চ) এ
তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেমাফর।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, গত বছর
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সময়ও ইসরায়েল ইন্টারসেপ্টরের
সংকটে ছিল। এবার ইরানের
ধারাবাহিক ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র
হামলার কারণে দেশটির দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
এদিকে
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে,
ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করছে। এতে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টরের
ঘাটতি আরও বেড়ে যেতে
পারে বলে আশঙ্কা করা
হচ্ছে।
মার্কিন
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে ইন্টারসেপ্টরের কোনো
সংকটে নেই। তবে ইসরায়েলের
মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টিকে
তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
ইসরায়েলের
আয়রন ডোম ব্যবস্থা মূলত
স্বল্প দূরত্বের রকেট ও হামলা
প্রতিরোধে কার্যকর। অন্যদিকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তারা ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার
করে। যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা
সক্ষমতা থাকলেও ইন্টারসেপ্টরই দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষার প্রধান
ভরসা।
গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে
১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০টিরও বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর
ব্যবহার করে। ওই সংঘাতের
প্রথম পাঁচ দিনেই প্রায়
২৪০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট
ইন্টারসেপ্টর ব্যবহৃত হয়। পরে চলতি
বছরের জানুয়ারি থেকে থাড ব্যবস্থার
উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে
চলছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট
সব পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির ইঙ্গিত
দিয়েছে।
এমানুয়েল মাখোঁ। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না এবং যে খবর ছড়িয়েছে সেটি নাকচ করেছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু তা সঠিক নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। ফরাসি নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছিল তা প্রত্যাখ্যান করছে মন্ত্রণালয় ।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ওই খবরটি সামনে এসেছিল। কিন্তু ফ্রান্স জানাল, রণতরি পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত। আত্মরক্ষামূলক ও সুরক্ষামূলক। তারা আপাতত যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকারী ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার (১৪ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সময়ও ইসরায়েল ইন্টারসেপ্টরের সংকটে ছিল। এবার ইরানের ধারাবাহিক ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দেশটির দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করছে। এতে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুদ্ধজাহাজ। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফাজল শেকারচি বলেন, ইরানের শক্তিশালী প্রতিরোধের কারণে ওই মার্কিন রণতরী কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং এলাকা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়।
তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির জন্য একটি ঐতিহাসিক পরাজয়, যা ভবিষ্যতে ইতিহাসে উল্লেখ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বহু বছর ধরে এই রণতরীকে মুসলিম বিশ্বের ওপর ভয় সৃষ্টি ও সম্পদ শোষণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মুখপাত্র মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না করে নিজেদের আঞ্চলিক শক্তি ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করা উচিত।
তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ঘটনার স্বতন্ত্র নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।