"শুভ্র শ্বেত-ফ্রক"

"শুভ্র শ্বেত-ফ্রক"

...........................................

এটাকে "ফ্রক" বলে জানতামনা

তুমি সেদিনই কেবল বললে

শ্বেত শুল্ক তুমি নিজেও-

ফ্রকের শ্বেতকায় তোমার নিজের

শুভ্রাঙ্গায়,-মনে হয়ে ছিলো একটা

পরি দাড়িয়ে আছে আমার পেছনটায়,

ঠিক দশ হাত দুরে, আমার চোখ পরতেই

একটা আলত হাসি দিয়ে, একটা চিরকুট

ধরিয়ে দিয়ে বললে,-আমি এখন যাই,

কাল দেখা হবে...

একটা কৌতুহলে আমার চোখ নড়ছিলো

তখন সন্ধ্যা আজানের অপেক্ষা ছিলো কেবল-

তুমি চলে গেলে,

আমি দাড়িয়েই ছিলাম দক্ষিনা দিগন্তপ্রসারী হয়ে,

আমার হাত-পায়ের তালু গেমে ভিজে গিয়েছিল

একটা কম্পন,- ঝিম হয়ে গেলো সমস্ত দেহ

দখিনের অদ্ভুত একটা বাতাস বৈছিল তখন

আজান হয়ে গেলো

চারপাশের সব কিছু একটা ধূসর-ছাই রঙে

ঢাকতে লাগলো

তারপর বেশ অন্ধকার নামলোই

তখন জৈষ্ঠ শেষ হয়ে আষাঢ় কেবল শুরু

কদম-বৃষ্টির মাস-আষাঢ়

যখনতখন বৃষ্টি-কদম ফুলের বেশ ছড়াছড়ি-

এখানে সেখানে

পাজামার পকেটে চিরকুট মুড়িয়ে বেশ যত্নেই রাখা

ঘরে ফিরে হারিকেন এর আলোতে মেলে ধরলাম

তোমার দেয়া চিরকুট

একটুখানি আর্জি করলে-এই নব গঠিত সম্পর্ক-বন্ধন সংস্রব সুত্রপাত যেন কোন দিন বিলিন না হয়ে যায়

আর গোপনীয়তার বেখ্যায় যেন অমীমাংসিত হয়েই

থাকে প্রকত্রীকরণ আমাদের মধ্যে

তারপর বিশ বছর পর এখন সেই তুমি আমি

এক অসুখের-মহী-ধরিত্রী-মেদেনী

একরকম ভাবেই বেঁচে থাকা আমাদের-পীড়া

আরোগ্য হীন প্রাণ-অনিদ্রায়-নিশিজাপন

গভীর সাগরের অতলো দুরধিগম্য হয়ে থাকো

তুমি এখনো, আমি তেমন প্রগাঢ়গহন

আমাদের মনোনয়ন-রুচি-নির্বাচন একই ভাবে থেকে

গেছে,-আমরা ভালোবাসি-একটা ফুল-

পাখীর একটু কলতান-সবুজ সমারোহ

আমরা ভালোবাসি- রবি ঠাকুরের গান

ক্ষেপা বিদ্রোহী নজরুলের -"বল বীর-

বল উন্নত মম শির"

সাইন্স ফিকশন-ভ্রমন গল্প বই-ইত্যাদি

আমাদের অন্ত মিলে রয়ে গেছে

নিরবতার অসিম সিমানা

বিশ বছর আগে,- তখন জানতে -

"আমি কবিতা লিখি দু'একটা"

তুমি চিরকুটে তা লিখলে-তোমাকে যেন আমার লেখা কিছু কবিতা দেই,তখন তো আর এই প্রযুক্তির যুগ ছিলোনা, তাই কাগজে লিখে দিতে বলছিলে

সে যুগে আর, তখন তোমাকে কবিতা লিখে দেয়া হয়নি আমার,আমি জানি-আমি যা লিখি,- এ কি

আসলে কোনো কবিতা?তাই দেইনি

আমি দুঃখীতও বলতে পারিনি,-সে অন্য

আরেক রকম গল্প

সাদা ফ্রকে সেই তুমি একটা ভাষ্কর্য নিপুণ কারুকার্য

দেবি-ঔশ্বরিক হয়ে দাড়ালে

আজ অব্দি তুমি তেমইনি আছ

তেমনি-নয়নে খেলে যাও অবিরত-

তেমনি দোলে যায় বাতাসে ফ্রকের

কুঁচি দেয়া কার্নিশ গুলো

কি মুগ্ধতা ছড়িয়ে গেলে সে কালে

কি রকম এক প্রজ্জ্বলিত শ্রী-শোভা-লাবণ্যে

আলো ছড়ালে,নিয়নের আলোর মত জ্বলছেই

বুকের জমিনে আমার

তবুও আমরা এক রকম ভাবেই বেঁচে থাকি-

কোন বৈষম্য চাইনা আমরা-আমরা মানবতার

গান গাই, আমাদের বুকে বাজে বিবর্তিত সুর

আমাদের ভালো লাগে নদী-"নদী" কেবল পার্থক্য

করে গেছে-তোমাকে প্রশান্তি দেয়

আর আমাকে বিষাদ দেয়

এটা তো আমাদের দোষ নয়

তটিনী-সরিৎ আমাদের হয়তো

এভাবেই বুঝেছে....

এছাড়া আমাদের আর কোন বৈষম্য নেই-

কোথাও নেই

তুমি আকাশের নীল ভালোবাসো-রংধনু-আমিও তাই

বৃষ্টি আমার বেশ প্রিয়- তোমার তাই

এভাবে কেটে গেছে বিশ বছর কাশফুল রাংঙে

তোমার ফ্রক স্মৃতি স্মারক মুদ্রা হয়ে

.......................................................................

........ জসিম গাজী

Copyright © priyokagoj.com All Right Reserved.
Developed By Monoputo