ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৩৩ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়- নতুন সরকার গঠন ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।


অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে। ৩০০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১টি আসন। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক আসনে জয় নিশ্চিত করে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।


দলীয় ঘোষণানুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আগেই দলীয়ভাবে তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।


কেমন হবে নতুন মন্ত্রিসভা?


দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অনির্বাচিত বিশেষজ্ঞ ও জোটসঙ্গীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।


দলীয় কার্যালয় ও শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন, যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে।


স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য সদস্যরা


বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে জানা গেছে। আলোচনায় যাদের নাম ঘুরছে, তারা হলেন—


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর


মির্জা আব্বাস


গয়েশ্বর চন্দ্র রায়


ড. আব্দুল মঈন খান


সালাউদ্দিন আহমেদ


আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী


ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু


ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন


মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ


আলোচনায় আরও যেসব নাম


এছাড়াও সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- খন্দকার মোক্তাদির, অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, রেজা কিবরিয়া, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আসাদুল হাবীব দুলু, আফরোজা খানম রিতা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদীন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, জহির উদ্দিন স্বপন, আলী আজগর লবী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীফুল আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নজরুল ইসলাম আজাদ, জিকে গউছ, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জাকারিয়া তাহের সুমন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফজলুল হক মিলন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, রফিকুল ইসলাম মজনু, ডা. মাহবুবুব রহমান লিটন, সাইদ আল নোমান, হাবিবুর রশিদ হাবিব, এসএম জিলানী, খন্দকার আবু আশফাক, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং দীপেন দেওয়ান।


টেকনোক্র্যাট ও জোটসঙ্গীদের সম্ভাবনা


দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হুমায়ন কবির এবং মাহদী আমিন টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।


এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান নেতা মোস্তফা জামাল হায়দারকেও (টেকনোক্রেট কোঠায়) মন্ত্রীসভায় দেখা যেতে পারে।




নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৩০ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মানহানি, ভয়ভীতি দেখানো ও অবমাননার মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত রোববার এ আদেশ দেন।


এর আগে এদিন বিএনপির রমনা থানার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর নামে আদালতে মামলার আবেদন করেন।


বাদীপক্ষের আইনজীবী আমিরুল ইসলাম (আমীর) বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আসামিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছে।


মামলায় আবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাপলা কলি নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যায়। নির্বাচনের সময় এ আসামি বিভন্ন সময়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দেন। কেবল তাই নয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পর আরও বেশি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে মিথ্যা মানহানিকর বক্তব্য ও বিভিন্ন হুমকি প্রদান করছে।


“সর্বশেষ ৫ মার্চ ফেইসবুকে আশরাফুল ইসলাম দেখতে পান, পাটয়ারী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের মান সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। মির্জা আব্বাসের এর সুনাম ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা সকল প্রকার শিষ্টাচার সভ্যতার রীতিনীতি বহির্ভূত এবং মানহানিকর।”


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মির্জা আব্বাস এবং পাটাওয়ারী ঢাকা-৮ আসন থেকে মনোনয়ন পান। বহুল আলোচিত এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েন বিএনপির মির্জা আব্বাস।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্বাস ৪৯৮০ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট। আর পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:২৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তাঁর সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, রাজনীতিসহ সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। একই সঙ্গে সরকার নারীর নিরাপত্তাবিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ৮ মার্চ (আজ রোববার) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বাণী পোস্ট দেওয়া হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, দিবসটি উপলক্ষে তিনি বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।


নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে–বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল সম্ভব নয়। বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়া যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে তা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল।


নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। 


তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, রাজনীতিসহ সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা চালু করা; উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা; মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা। সরকার নারীর নিরাপত্তাবিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে। আমাদের বিদ্যমান সমাজে সমতা হোক অঙ্গীকার, মর্যাদা হোক বাস্তবতা, আর ক্ষমতায়ন হোক উন্নয়নের ভিত্তি।’

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:১৮ পিএম


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:১৮ পিএম

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মার্কিন দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রীর সঙ্গে আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান। 


মন্ত্রী বলেন, ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, অবৈধ অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে SPEAR প্রোগ্রাম, Electronic Nationality Verification (ENV) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। 


বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি শুরু থেকেই বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে কাজ করে আসছে। এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সহ সমগ্র ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে ‘Special Programme for Embassy Augmentation and Response (SPEAR)’ শীর্ষক প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা প্রয়োজন। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রের এ তহবিল ফেরত বা অন্যত্র চলে যেতে পারে। মন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত এ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে চাই। রাষ্ট্রদূত এ সময় মন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিও'তে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। 


রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসন রোধে বাংলাদেশে ‘ইলেকট্রনিক ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন (ইএনভি)’ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে চায়। এটি বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন খাতে বাংলাদেশ গ্রিন জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে। 


তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমন খাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। সন্ত্রাস দমন কর্মসূচিতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পর্যায়ের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছে। কিন্তু কর্মকর্তাদের অবসর ও বদলিজনিত কারণে এটি আশানুরূপ ফলপ্রসূ হয়নি। মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি সভা/কর্মশালা আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।


বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সিলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার শেন স্যান্ডার্স, পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট তানিক মুনির, পলিটিক্যাল অফিসার রিলে পালমার্টি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ইরানে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:১৬ পিএম

ইরানে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এখন প্রশ্ন, খামেনির মৃত্যুর পর এই মুহূর্তে ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন?


এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে আল-জাজিরা। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে কী হবে, সে ব্যাপারে ইরানের সংবিধানে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারিত আছে। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, তিন সদস্যের একটি পর্ষদ দেশটির দায়িত্ব নেবে। এই পর্ষদে থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতা।


বিবিসি লাইভের খবরে বলা হয়, ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী সময়ে দেশ পরিচালনার তত্ত্বাবধান করবেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতা।


বিবিসি লাইভের আরেক খবরে বলা হয়, এখন অ্যাসেম্বলি অব লিডারশিপ এক্সপার্টস খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে।


সংবিধান অনুযায়ী, এটি যত দ্রুত সম্ভব, সম্পন্ন করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যে নিরাপত্তার কারণে দ্রুত সবার সমবেত হওয়া কঠিন হতে পারে।


ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর দিনই ১৯৮৯ সালে খামেনিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত করা হয়েছিল।


এ ছাড়া এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে কিছু কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে বললে, খামেনির মৃত্যুর পর অনুসরণ করার মতো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ইরানে রয়েছে।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকালে গতকাল শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে নিহত হন খামেনি।


খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান। বিবিসির খবরে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে ১ মার্চ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।


গতকাল সকালে ইরানজুড়ে তীব্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরেরও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর পেছনে তিনটি লক্ষ্যের কথা বলেছেন। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, আসন্ন হুমকি নির্মূল করা। দ্বিতীয়ত, ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌবাহিনীকে ধ্বংস করা। তৃতীয়ত, ইরানে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন।